মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংকগুলো হলো— ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং ট্রাস্ট ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭৫তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএসইসি।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ১ হাজার কোটি, ইউসিবির ৮০০ কোটি এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংক ইস্যু করতে যাচ্ছে ‘আনসিকিউরড, নন-কনভার্টিবল, ফুললি রিডিমেবল, ফ্লোটিং রেট সোশ্যাল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড’, যার মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা তোলা হবে। বন্ডটির কুপন রেট নির্ধারিত হবে রেফারেন্স রেটের সঙ্গে আড়াই শতাংশ কুপন মার্জিন যোগ করে।
এই বন্ড সম্পূর্ণ প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১০ লাখ টাকা। বন্ডের অর্থ দিয়ে ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করা হবে। ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করবে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে থাকবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বন্ডটি পুঁজিবাজারের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, ট্রাস্ট ব্যাংক ইস্যু করছে ৫০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। এই বন্ডের কুপন রেট নির্ধারণ হবে রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ কুপন মার্জিন যোগ করে। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি হবে। প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১ লাখ টাকা। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ব্যাংকের ব্যাসেল-৩ টায়ার-২ মূলধন জোরদার করা হবে।
এই বন্ডের ট্রাস্টি ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি, আর অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এটিও এটিবি বোর্ডে তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
একইসঙ্গে, ইউসিবির ৮০০ কোটি টাকার আনসিকিউরড, নন-কনভার্টিবল, ফ্লোটিং রেট সাব-অর্ডিনেট বন্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বন্ডটির কুপন রেট রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে নির্ধারিত হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছেই বন্ডটি বিক্রি করা হবে।
এর ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করবে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি, আর অ্যারেঞ্জার হিসেবে থাকবে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত করা হবে।
এই তিন বন্ড অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।